Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home3/binodanp/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
চলমান জীবনের ছবি 'আজকের শর্টকাট' - চলমান জীবনের ছবি 'আজকের শর্টকাট' -
Saturday, March 7, 2026
বিনোদন প্লাস স্পেশাললাইম-Light

চলমান জীবনের ছবি ‘আজকের শর্টকাট’

নচিকেতার গল্প নিয়ে পরিচালক সুবীর মণ্ডলের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নিয়ে দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে। লিখেছেন অজন্তা সিনহা।

বাংলা ছবির দর্শকের মধ্যে ‘আজকের শর্টকাট’ নিয়ে উৎসাহের পারদ যে বেশ কিছুটা উর্দ্ধগামী, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এই নিয়ে নতুন করে কিছু বলারও দরকার পড়ে না। এর অন্যতম প্রধান কারণ নিঃসন্দেহে নচিকেতা চক্রবর্তীর নাম এ ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়া। বাংলাগানের এই প্রতিভাবান মানুষটির বিচরণ সঙ্গীতের সব ক্ষেত্রেই। আদ্যন্ত সৃজনশীল নচিকেতা খুব ভালো গল্পও লেখেন, ওঁর ঘনিষ্ঠমহলের কেউ কেউ হয়তো সেটা জানেন। তবে, আম জনতার অনেকেই এই ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন। নচিকেতার লেখা গানে আমরা যে জীবনবোধের পরিচয় পাই, তাঁর গল্পে ঠিক সেই রসদই নিঃসন্দেহে খুঁজে পেয়েছেন পরিচালক সুবীর মণ্ডল। তাঁদের সহযাত্রা বহু বছরের। সেখান থেকেই সমমনস্কতা এবং ‘আজকের শর্টকাট’ নির্মাণের ভাবনার উন্মেষ। যার চূড়ান্ত ফসল ফলতে চলেছে আজ। আজই মুক্তি পাচ্ছে সুবীর মণ্ডল পরিচালিত, বহু প্রতীক্ষিত এই ছবি।

নচিকেতার গল্পে চেনা জীবন আচমকাই মোড় নেয় অভিনব ও বিচিত্র এক পথে। বেকার সমস্যা নিয়ে আমরা সচরাচর যে জাতীয় কাহিনির মুখোমুখি হই, ‘আজকের শর্টকাট’ মোটেই তেমন গতে বাঁধা পথে চলে না। বেশ ব্যতিক্রমী এই গল্পে আমরা দেখবো বস্তির ছেলে বিশুকে (পরমব্রত)। সে যে ঝুপড়িতে থাকে, তার পাশেই এক বহুতল। সেই বহুতলের আবাসিক আবেশ (গৌরব চক্রবর্তী)। আবেশ স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান, কবিতা লেখে। একদিন এক ভবঘুরে বেঁচে থাকার কোনও উপায় খুঁজে না পেয়ে চলতি গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। জীবনের যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তির এটাই ছিল তার শর্টকাট ! ঘটনাটি ঘটে বিশু আর আবেশের সামনে। তারা দুজনেই আকস্মিক এই ঘটনায় চমকে যায়।

Images 3 8 2
চলমান জীবনের ছবি 'আজকের শর্টকাট' 13

এরপরই বিশু ভেবে নেয়, সত্যিই তো, এর চেয়ে ভালো শর্টকাট তো আর কিছু হতে পারে না। সে এবার এই শর্টকাটেই সহজে রোজগারের ফন্দি আঁটে। গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার ভাণ করে বিশু। আর তার বন্ধুরা এই অজুহাতে গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে টাকা লুটতে থাকে। বিশুর এই অভিনব শর্টকাট আবেশকেও এক শর্টকাট পথ দেখায়। কবিতা লেখা ছেড়ে সে বিশুর আত্মহত্যা নাটকের ওপর মুভি তুলতে শুরু করে। সঙ্গে যোগ দেয় ঢাকা থেকে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা আবেশের বান্ধবী নার্গিস (অপু বিশ্বাস)। বাংলাদেশ থেকে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ নিয়মিত ভারতে আসেন চিকিৎসার কারণে। তেমনই এক সূত্রে নার্গিসেরও এদেশে আসা। ঘটনাচক্রে আবেশের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম। 

Images 3 6 3
চলমান জীবনের ছবি 'আজকের শর্টকাট' 14

অপু বিশ্বাস বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত মডেল ও অভিনেত্রী। ২০০৬ সালে ‘কাল সকালে’ ছবির মধ্য দিয়ে তাঁর অভিনয়ের কেরিয়ার শুরু। এরপর ‘কোটি টাকার কেবিন’ ও আরও অনেক ছবি। ২০১৩ সালে ‘দেবদাস’-এর বাংলাদেশী রিমেকে পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করেন অপু। টলিউডে অপুর ডেবিউ হলো সুবীর মণ্ডলের ‘আজকের শর্টকাট’-এর হাত ধরেই। বাংলাদেশের একাধিক নায়িকা এর আগে এপার বাংলার ছবিতে কাজ করেছেন। সত্যজিৎ রায় ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে ববিতাকে কাস্ট করেন। ববিতার কেরিয়ারে সে ছবি যে মাইলস্টোন হয়ে আছে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আরও কেউ কেউ পরে আসেন। তবে, তাঁরা তেমন প্রতিষ্ঠা পাননি। বেশ কয়েক বছর পর নিজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা তৈরি করেন জয়া আহসান।

অপু বিশ্বাস সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবেন কিনা, সেকথা সময়ই বলবে। আপাতত পরিচালকের কথায়, ‘‘নার্গিস চরিত্রে চেহারা, কথা বলার ধরণ ইত্যাদি যেমনটা দরকার ছিল, অপুর মধ্যে সেটা নিখুঁতভাবে পাই। সেইজন্যই অপুকে নির্বাচিত করা। এছাড়া ওঁকে গৌরবের সঙ্গে খুব সুন্দর মানিয়েছে। বিশেষ করে গানের দৃশ্যে ওঁদের দুজনের রসায়ন একেবারে জমে গেছে।” পরিচালক এ ছাড়াও জানান পরমব্রতকে একেবারে ভিন্ন মেজাজে পাবেন এখানে দর্শক। ঠিক এই ধরণের চরিত্রে এর আগে নাকি কেউ দেখেনি তাঁকে। নচিকেতার গল্প নিয়ে চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন সুগত সিনহা। সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা। গানগুলি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ স্বভাবতই। ডিওপি সুপ্রিয় দত্ত। ছবির শুটিং হয়েছে বিধাননগর, রাজারহাট ও নিউটাউনে। অভিনয়ে অন্যান্যদের মধ্যে আছেন চন্দন সেন, বিশ্বনাথ বসু, শংকর দেবনাথ, রাজশ্রী ভৌমিক, পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিন্দিতা বসু প্রমুখ।

পরিচালক সুবীর মণ্ডলকে চিনি বহু বছর। লেখালেখি, বাচিকশিল্প চর্চা, থিয়েটার থেকে শুরু করে তথ্যচিত্র ও ডকু-ফিচার নির্মাণ। আকাশবাণী ও কলকাতা দূরদর্শনে কাজের অভিজ্ঞতা–নানাভাবে সমৃদ্ধ তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি। বানিয়েছেন বিজ্ঞাপনচিত্র। চিত্রনাট্য লেখার কাজ করেছেন। স্বীকৃতি ও পুরস্কার মিলেছে বহু ক্ষেত্রে। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের হয়ে বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণে নিবিষ্ট গবেষণা তাঁর ধারাবাহিক সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অঙ্গ হয়ে আছে। দেশবিদেশের বহু বিখ্যাত পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করার বিশেষ অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। সুবীরের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিকে ঘিরে বাংলা সিনেমা ও সাংস্কৃতিক মহলে উৎসাহ তুঙ্গে। একই সঙ্গে দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে ‘আজকের শর্টকাট’। প্রযোজনা করমন্ডল।