Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home3/binodanp/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
ক্রিশ্চিয়ানো – উপন্যাস|লেখক – হিল্লোল ভট্টাচার্য ।পাঠ প্রতিক্রিয়া। ক্রিশ্চিয়ানো – উপন্যাস|লেখক – হিল্লোল ভট্টাচার্য ।পাঠ প্রতিক্রিয়া।
Saturday, March 7, 2026
প্রজ্ঞা পাবলিকেশন

উপন্যাস – ক্রিশ্চিয়ানো|লেখক – হিল্লোল ভট্টাচার্য ।পাঠ প্রতিক্রিয়া।

লিখলেন – অনুপম দত্ত

উপন্যাস – ক্রিশ্চিয়ানো

লেখক – হিল্লোল ভট্টাচার্য

প্রকাশক – প্রজ্ঞা পাবলিকেশন

বাঁধাই – হার্ড বাউন্ড

মুদ্রিত মূল্য – ২৮০/-

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো ছেলেবেলায় সেভাবে খেলাধুলো কখনও করিনি, কিন্তু খেলাকে কেন্দ্র করে লেখা গল্প, উপন্যাস গোগ্রাসে গিলতাম একসময়। সেই খিদের তীব্রতা এখন কমে এলেও মাঝেসাঝে এধরনের বই পড়তে এখনও ভালো লাগে। হিল্লোল ভট্টাচার্যের কলমের আমি অনুরাগী হলেও তাঁর বড় মাপের কোনও লেখা এর আগে পড়ার সুযোগ হয়নি। তাই বইমেলায় বইটি নেবো ভেবেই রেখেছিলাম।

ইদানীং একটা ধারণা আমার মনে জমছিলো যে একটানা পড়ে কোনও বই শেষ করার ক্ষমতা আমার কমে আসছে। একটা বই শেষ করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। একটা দুপুরের মধ্যে ‘ক্রিশ্চিয়ানো’ শেষ করে বুঝলাম মনের মতো কাহিনী আর টানটান গদ্য হলে এখনও এক সিটিংয়ে একটা বই শেষ করতে পারি। এই অনুভূতির সম্মুখীন হবার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য হিল্লোলকে অনেক ধন্যবাদ।

বইটির কাহিনী নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাই না। ছেলেবেলা থেকে আমরা প্রায় সকলেই অখ্যাত মফস্বলের প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন কিশোরের সংগ্রাম, নানাবিধ সংঘাত পেরিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি খুঁজে পাওয়ার কাহিনী পড়ে আসছি। এখানেও সে অর্থে কোনও চমক নেই। রসগ্রাহী পাঠকের এক্ষেত্রে সতর্ক মনোযোগ থাকে লেখক কীভাবে কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সুখ দুঃখের পুঁতিগুলোকে সুতোয় বেঁধে কেমন অপরূপ মালা গাঁথলেন সেইদিকে। ‘ক্রিশ্চিয়ানো’তে এই কাজটা হিল্লোল বড় সাবলীলভাবে করেছেন।

ফুটবল খেলোয়াড়ের গল্প। শুরুর পরিচ্ছেদের নাম ‘কিক অফ’। কিক অফের পর থেকেই ন্যারেটিভ ছোট ছোট অধ্যায়ে, যেন ছোট ছোট পাসে মাঝমাঠ পেরিয়ে পেনাল্টি বক্সের দিকে এগিয়ে চলেছে। একমুহূর্তেও গতি স্লথ হচ্ছে না। গেগান প্রেসিংয়ে পাঠকের মনোযোগকে তাড়া করছে গল্পের চরিত্ররা। মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাংক চেঞ্জ করে মাঠ বড় করে নেওয়া হচ্ছে। ৪-৪-২ এ সতর্কভাবে শুরু হওয়া গল্প শেষপর্বে এসে ৩-৪-৩ এর বিধ্বংসী গতিতে সোজা পাঠকের হ্রদয়ের বক্সে ঢুকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দিয়েছে। আমরাও মনে মনে চেঁচিয়ে উঠছি – কৃষ্ণরঞ্জন দে! কৃষ্ণরঞ্জন দে! কৃষ্ণরঞ্জন দে!!

আমার খুব প্রিয় একটা উপন্যাস মতি নন্দীর ‘স্ট্রাইকার’। সেই বইয়ের একটা ডায়লগ মনে পড়ছে – ‘প্রসূনকে বল দে! প্রসূনকে বল দে!’

ক্রিশ্চিয়ানো পড়ার পরে আমিও মনে মনে বিড়বিড় করছি – ‘হিল্লোলকে কলম দে! হিল্লোলকে কলম দে!’

—————————-

প্রাপ্তিস্থানঃ

  • প্রজ্ঞা পাবলিকেশনের নিজস্ব বিপণী। বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, প্যারামাউন্টের ঠিক বিপরীতে।
  • ঘরে বসেই বইটি হাতে পাওয়ার জন্য WhatsApp করুন 9147364898 – এই নম্বরে।

অন্যান্য প্রাপ্তিস্থান –

  • দে বুক স্টোর (দীপুদা)
  • জানকী বুক ডিপো (সুখরঞ্জন দা)
  • বইবন্ধু