জানালা খুলতেই ঝাঁপিয়ে পড়লো অপরূপ নিসর্গ
দিন যাপনের একঘেয়েমি আর ক্লান্তি দূর করতে পর্যটনের বিকল্প নেই। চার দেওয়ালের গন্ডি ছাড়িয়ে তল্পিতল্পা গুটিয়ে ঝোলা কাঁধে সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন যাঁরা, তাঁদের জন্যই এই কলম। লিখছেন অজন্তা সিনহা।
জীবনে প্রথম একা বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারটাই আলাদা। এটা আজ থেকে কমপক্ষে দু যুগ আগের কথা। সেসময় আজকের মতো সহজ ছিল না ব্যাপারটা। বিশেষ করে এই কারণেই বোধহয় বহু বছর আগে গেলেও লাটপাঞ্চার আমার স্মৃতিতে আজও অম্লান। অফিসের এক সহকর্মীর কাছে হদিশ পেয়েছিলাম উত্তরবঙ্গের এই ছোট্ট পাহাড়ী গ্রামের। চেনা জায়গায় বড্ড লোকের ভিড়। তাই অচেনার অভিযান। আর সেখান থেকেই লাটপাঞ্চারকে খুঁজে পাওয়া। সেসময় পুজোর ছুটি মানেই উত্তরবঙ্গ বা সিকিমের পাহাড়ী অঞ্চলে ছুট। লাটপাঞ্চারও সেই ছুটির অবকাশেই যাওয়া। মজাদার এই নামের মাহাত্ম্য পরে জানিয়েছিলেন হোমস্টে-র মালিক।
ব্রিটিশ আমলের কথা। লাটসাহেবের গাড়ি নাকি এখানে এসেই পাঞ্চার হয়ে গেছিল, তাই এমন নামকরণ। সত্যি জানার উপায় নেই। অত উঁচুতে লাটসাহেব আদৌ গেছেন কিনা, তা ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না। উত্তরবঙ্গের নানা পাহাড়ী গ্রামে ঘোরার সুবাদে আজবগজব সব নাম পেয়েছি। কোনও নামের অর্থ জানা গেছে, কোনওটা যায়নি। সে হোক, লাটসাহেব আসুন না আসুন, সাহেবদের এখানে আসাযাওয়া অবশ্যই ছিল। মূল্যবান সিনকোনা চাষের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলের অনেকটাই ছিল একদা ব্রিটিশের অধীন।

ট্রেনে যতই ভালো ব্যবস্থা থাক, ঘুমে-জাগরণে কাটে আমার। আসলে ওই যে ট্রেনের দুলুনি, ওর একটা আলাদা মজা আছে। ওই দুলুনিই ঘুম পাড়ায়। আবার জাগিয়েও দেয়। আর চোখ খুললেই ঘরের চার দেওয়ালের বাঁধন নয়, চলেছি মুক্তির পথে, এই অনুভূতিটা ফেলে আসা রোজকার তিক্ততা ভুলিয়ে দেয়। এভাবেই এই যাত্রাতেও পৌঁছে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। তারপর পূর্ব ব্যবস্থামতো গাড়িতে স্টেশন চত্বর ছাড়িয়ে, শিলিগুড়ি শহর পার হয়ে সেবক। সেবক রোড হয়ে মহানন্দা রেঞ্জ। দুপাশে জঙ্গল ফেলে সোজা চলে গেছে পিচরাস্তা। তারপরই তিস্তা। সেই প্রথম তিস্তার সঙ্গে দেখা। সে যে কি মোহাবিষ্ট এক অবস্থা ! ততক্ষণে শরতের পেঁজা-তুলো মেঘ পুজোর আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে আকাশে।
কালিঝোরা পর্যন্ত তিস্তা পাশে পাশে। তারপর তাকে নিচে ফেলে রেখে আমাদের গাড়ি বাঁদিকের কিছুটা কাঁচাপাকা এক পাথুরে রাস্তা ধরে। নিচে থাকলেও দৃষ্টিসীমার বাইরে নয়। পাহাড় বেষ্টন করে রাস্তা উঠেছে চড়াইমুখী। আর সেই রাস্তা ধরেই গাড়িও উঠছে উপরে। সেখান থেকেও তিস্তা রয়েছে দৃষ্টিপথে। সে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। বিপজ্জনকও বটে। কোথাও কোথাও রাস্তা একেবারে খাড়া। কোথাও বা এত সরু যে একচুল এদিকওদিক হলেই সোজা খাদে। এটা ঠিক, এই সব অনির্বচনীয়তার জন্যই তো পাহাড়ে আসা। নেপালি ড্রাইভার গান শুনতে শুনতে অতি দক্ষতায় চড়াই চড়িয়ে শেষে পৌঁছে দিল লাটপাঞ্চারের একমাত্র হোমস্টে-র দরজায়। প্রসঙ্গত, এখন বেশ কয়েকটি হোমস্টে হয়েছে। আর ভিড়ও বেড়েছে। আমি একেবারে নির্জন লাটপাঞ্চারকে আবিষ্কার করেছিলাম।


হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন এক নেপালি ভদ্রলোক। এদিকওদিক থেকে কিছু কৌতূহলী মুখ। সেইসব পেরিয়ে ভিতরে ঢুকি। বেশ সমৃদ্ধ এক নেপালি পরিবার। বাড়ির নিচতলাটায় নিজেরা থাকেন। ওপরের তিনটি ঘর অতিথির জন্য নির্দিষ্ট। তারই একটিতে আমার থাকার ব্যবস্থা। ঝটপট স্নান করে ফ্রেশ হই। ঘরের একপাশের বিশাল কাচের জানালা খুলতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে অপরূপ নিসর্গ ! এখন পুরো প্রকৃতি যেন ঘরের ভিতর। যতদূর চোখ যায়, শুধুই পাহাড়। ওপরে নীল আকাশ। মেঘের দল নেমে এসেছে পাহাড়ের কোলে। সে এক অপূর্ব দৃশ্যকাব্য ! সম্বিৎ ফেরে এক মিষ্টি চেহারার মহিলার ডাকে। জানান, লাঞ্চ রেডি। হোম স্টে-র খাওয়াদাওয়া খুবই সহজ সরল। ভাত-রুটি, সঙ্গে ডাল, ডিম, চিকেন বা সবজি। ব্রেকফাস্টে পুরি-সবজি বা আলু পরোটা, সঙ্গে চা বা কফি। ঘুম থেকে উঠে বেডটি-ও পেয়েছি। সন্ধ্যায় চা-কফির সঙ্গে স্ন্যাকস। সুস্বাদু রান্না। গরম গরম পরিবেশন। পরিচ্ছন্নতা সর্বত্র। আর অনাবিল আন্তরিকতা। মনেই হবে না ঘরের বাইরে এসেছেন।
লাটপাঞ্চারে ফুলের বাহার দেখবার মতো। প্রায় সবার বাড়ির সামনেই বাগান রয়েছে। সেই বাগানে প্রজাপতির ওড়াউড়ি। ভয়ডর নেই, নিশ্চিন্তেই আছে তারা। জঙ্গলে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। শুনলাম প্রায় ২৪০ প্রজাতির পাখি আছে এখানে। অনেকেই বেশ বিরল তাদের মধ্যে। হোমস্টে থেকে এক-দু পা এগোলেই জঙ্গল। দিনের বেলাতেও সেখানে অন্ধকার, এতটাই ঘন গাছগাছালি। জঙ্গল লাগোয়া এই ছোট্ট গ্রামে অল্প কয়েকঘর লোকের বসবাস। বেশির ভাগই সিনকোনা চাষের সঙ্গে যুক্ত। দুয়েকজন পুলিশ বা আর্মিতে। কারও কারও বাড়িতে নার্সারি আছে। জমিও আছে অল্পস্বল্প। দিন গুজরান হয়ে যায় কোনওমতে। অভাব আছে, কিন্তু অভিযোগ নেই। ঘুম ভাঙতেই নারী-পুরুষ কাজে লেগে পড়েন। ঝাড়পোছে ঝকঝকে করে তোলেন পুরো গ্রামটাই যেন।



যেদিন গেলাম, সেদিন লাঞ্চের পরেই গ্রামের বাচ্চাকাচ্চা চলে এল আমার সঙ্গে আলাপ করতে। তাদের মধ্যে তিন কিশোরকিশোরী তো আমার দায়িত্বই নিয়ে নিল। যে ক’দিন ছিলাম, সকাল-বিকেল পায়ে হেঁটে ওদের সঙ্গেই ঘুরে বেড়িয়েছি গ্রাম আর জঙ্গলের পথে। ঘুরতে ঘুরতেই জেনেছি, কিছুটা নিচে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত সাহেবি আমলের বাংলোর কথা। সেই ১৯০০ সালে সিনকোনা চাষের সূত্রে সাহেবরা এখানে থাকতো। এখন সেই বাংলো বন বিভাগের অধীনে অতিথিশালা। গ্রাম থেকে অনেকটা উঁচুতে সিনকোনা চাষের ক্ষেত। শুনলাম দুর্গাপুজো হচ্ছে ওখানেই। অত উঁচুতে ওঠার উপায় নেই। বাচ্চাপার্টি প্রসাদ এনে খাওয়ায়। পরম আদরে রোজ সকালে পুজোর পর কপালে টিকা লাগিয়ে দিয়ে যায়। নিয়ে যায় নিজেদের ঘরে। কি সুন্দর যে ওদের জীবনযাপন ! বিছানার চাদর, পর্দা, সোফা, কুশন, টেবিলের ঢাকনা, আয়নার ঢাকা–সর্বত্র লেসের কারুকাজ। কি গুণী মানুষজন ! বিত্তের অভাব ওদের সৌন্দর্যবোধকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, কিছু তথ্য জানিয়ে রাখা যাক। মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির অন্তর্গত লাটপাঞ্চারের উচ্চতা ৪২০০ ফুট। ভাগ্যে থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পাবেন। আমার ভাগ্যে অবশ্য কদাচই দর্শন দেন তিনি ! কাছাকাছি ঘন জঙ্গল। সেখানে হরিণ, বার্কিং ডিয়ার, ব্ল্যাক ডিয়ার, বানর, লেপার্ড আছে শুনলাম। মাঝে মাঝে হাতিরাও অনেকটা উঠে আসে। আর আছে রেড পান্ডা। একমাত্র তার দর্শনই এ যাত্রায় মিলেছিল। বাকি কারও দেখা পাইনি। হোমস্টে-র মালিক বলেছিলেন লেপার্ড মশাইয়ের দেখা না পাওয়াই ভালো। ছাগল, বাছুরদের সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে ওরা। মানুষকে কি আর রেয়াত করবে ?
প্রায় ১৪০০ একর জমি জুড়ে সিনকোনা চাষ, সঙ্গে বেশ কয়েকটি কারখানাও আছে। ঘুরে দেখতে ভালোই লাগে। এছাড়া গ্রামের ভিতর থেকেই পথ চলে গেছে জঙ্গলে। একটু দূরে অহল্যা দারা ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। তিস্তাও বড় অপরূপ অহল্যা দারা থেকে। থাকার জন্য অহল্যা দারায় কিছু কটেজ হয়েছে এখন শুনলাম। কাছাকাছি নামথিং লেক, যার পাশে ঘন হয়ে আছে পাইন বন। যেন পটে আঁকা ছবি। বিরল হিমালয়ান সালভাদরের দেখা পাবেন নামথিং পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে। এছাড়াও অতি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সিল্ক রুটও কাছেই। লাটপাঞ্চারে সিনকোনা ছাড়াও জঙ্গলে রয়েছে শাল, টিক ও পাইনের মহার্ঘ বিলাস।


ফেরার ঠিক আগের দিনের কথা। আগের দিনই কলকাতা থেকে একদল ছেলে এসেছে। পাহাড়ী এই গ্রামের মিষ্টি জীবনছন্দে মেতেছে ওরাও। আকাশে দশমীর চাঁদ। আকাশ ঝকঝকে। হোমস্টে-র সামনের চাতালে ছড়িয়ে বসেছি আমরা। খুব আড্ডা হচ্ছে। কয়েকবার চা হয়ে গেছে। হঠাৎ গ্রামেরই এক তরুণ এসে জানায় রেড পান্ডার দেখা পাওয়া গেছে। ছুট ছুট। সবাই গিয়ে সেই গাছের সামনে দাঁড়াই, যেখানে তিনি অধিষ্ঠান করছেন। ছোটখাটো চেহারার সেই প্রাণী তো প্রায় লজ্জায় মরেই যায়। কিছুক্ষণ ইতিউতি তাকিয়ে ধীরেসুস্থে ডালপালার আড়ালে চলে যায় সে। আমরা ঘরে ফিরি। আলোচনায় উত্তেজিত সবাই। কিছু তো একটা দেখা গেছে !
এবার ফেরার পালা এবং কিছু জরুরি তথ্য। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে লাটপাঞ্চার পৌঁছতে এক ঘন্টা পঞ্চাশ মিনিট মতো লাগে। গাড়ি রিজার্ভ করে যাওয়াই ভালো। ভাড়া মোটামুটি ২০০০-২৫০০ টাকা। হোম স্টে-র থাকাখাওয়ার খরচ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এই রেটগুলো কমবেশি হতে পারে। আমি বহু বছর আগে গেছি। সাইট সিয়িং-এর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা হোমস্টে থেকেই করে দেয়। জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো, পাখি ও গাছপালা দেখার জন্য গ্রামেই গাইড পাওয়া যায়। সব থেকে ভালো সময় অক্টোবর থেকে মে। বর্ষা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে গেলে যথেষ্ট শীতপোশাক সঙ্গে থাকা আবশ্যক। আমি যেখানে ছিলাম সেই গুরুং হোমস্টে-র ফোন নম্বর ৯৪৭৫৯৫৯৯৭৪। এছাড়া ইন্টারনেট সার্চ করলে আরও কিছু তথ্য পাবেন। দার্জিলিং ট্যুরিজমের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।



★★ যখনই বেড়াতে যাবেন (নিয়মিত বিভাগ)
🌈 প্যাকিং ফান্ডা
🔺কি কি নিয়ে যাবেন তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন চটপট। এটা বেশ কয়েকদিন আগেই করুন। এতে জরুরি ও প্রয়োজনীয় জিনিস ভুলে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
🔺ব্যক্তিগত জরুরি জিনিস, টাকাপয়সা, ট্রেন বা ফ্লাইটের টিকিট, হোটেলের বুকিং স্লিপ ইত্যাদি এমন জায়গায় রাখুন যা হাতের কাছে থাকবে অথচ বিশেষ যত্ন-খেয়ালও রাখা যাবে। ক্যামেরা, ল্যাপটপ ব্যাগের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।
🔺 ফার্স্ট এড বক্স, সাধারণ জরুরি ওষুধ এবং আপনি নিয়মিত যে ওষুধ খান তা যথাযথ পরিমানে সঙ্গে রাখুন।
🔺 টর্চ-মোম-দেশলাই অবশ্যই রাখতে হবে।
🔺সানগ্লাস, ছাতা ও বর্ষাতি রাখতে পারলে ভালো।
🔺ভাঁজ নয় জামাকাপড় ফোল্ড করে প্যাক করলে কম জায়গায় বেশি পোশাক আঁটবে। আর জামাকাপড়ের ভাঁজও নষ্ট হবে না।
🔺জামাকাপড়-জুতো ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিন কোথায় যাচ্ছেন, সেই অনুসারে। যেমন, পাহাড়-জঙ্গল-সি বিচ যেখানে, সেখানে হিলতোলা জুতো নয়, স্পোর্টস শু জাতীয় হলে ভালো। আর পোশাকও প্রয়োজনের অতিরিক্ত নয়। প্রসাধনী ও রূপচর্চার উপকরণও যেটা না হলে নয়, ততটুকুই। মনে রাখুন, বোঝা বাড়ালে পথে চলাফেরায় কষ্ট। শীতের জায়গায় যথেষ্ট শীতপোশাক রাখুন সঙ্গে।
🔺গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেলে সঙ্গে রাখুন কিছু শুকনো খাবার, টি ব্যাগ, কফি পাউডার, গরমজল করার ইলেকট্রিক কেটলি, কাগজের কাপ ও প্লেট, টিস্যু পেপার।


🌈 যাওয়ার আগে কি কি করবেন
◾যথাসম্ভব জায়গাটা সম্পর্কে আগাম খোঁজখবর নিয়ে নিন। স্পটে গিয়ে কি কি দেখবেন, কিভাবে সময় কাটাবেন, তার একটা ধারণা থাকলে সুবিধা হবে আপনার। বাজেট করা ও প্যাকিংয়ের ক্ষেত্রেও এটা জরুরি।
◾জেনে নিন, কাছাকাছি এটিএম, প্রয়োজনে ডাক্তারের ব্যবস্থা আছে কিনা। না থাকলে সেই অনুসারে আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
◾চেষ্টা করবেন থাকা-খাওয়া-যাতায়াত-সাইট সিয়িং-শপিং ইত্যাদি খরচাপাতির জন্য একটা নির্দিষ্ট বাজেট করে নেওয়ার।
◾বেড়াতে গিয়ে যাতে অসুস্থ না হয়ে পড়েন, তার জন্য আগে থাকতেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
🌈 আগাম বুকিং এবং
এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত দিক। যাঁরা হঠাৎ করে বেরিয়ে পড়েন, দল বেঁধে বা একা এবং বুকিংয়ের তোয়াক্কা করেন না, তাঁদের জন্য এই বিভাগ নয়। যাঁরা কিছুটা নির্ঝঞ্ঝাট বেড়ানো পছন্দ করেন, পরিবার পরিজন নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাঁরা সচরাচর এডভান্স বুকিং না করে যান না। আমি নিজেও সেভাবেই সারা জীবন ঘুরেছি। এই বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকসময়ই এজেন্ট, পাহাড়ের ক্ষেত্রে হোমস্টে মালিক এবং সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে পর্যটকদের নানা বিষয়ে অশান্তির কথা শোনা যায়। এক্ষেত্রে যে সাবধানতা গুলি অবলম্বন করা যেতে পারে—
■ এজেন্ট সম্পর্কে ভালো করে আগে খোঁজ নিন
■পাহাড়ের হোমস্টে মালিকরা এমনিতে সৎ। কিন্তু ততটা পেশাদার এখনও নয়। কথাবার্তা, আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও ওদের কিছুটা সমস্যা আছে। ওদের ক্ষেত্রে বার বার জিজ্ঞেস করে, ভাষার কোনও সমস্যা থাকলে, সেটা কাটিয়ে উঠে, নিজের চাহিদা পূরণের ব্যাপারটা আগে থেকে বুঝে নিন।
■ কোনও কারণে বেড়াতে যাওয়া ক্যান্সেল হলে এডভান্স বুকিংয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হয় না, এটাই নিয়ম। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার টাকা গচ্ছিত থাকবে ওই এজেন্ট, হোমস্টে মালিকের কাছে এডভান্স হিসেবেই। সেই সময়ের মধ্যে আপনি যেতে পারবেন সেখানে। এই বিষয়টিও বুকিংয়ের সময় পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
🌈 কি করবেন
◾মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন। যেখানে গেছেন, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে যত বেশি মানিয়ে চলবেন, তত মজা-খুশি-আনন্দ অনন্য প্রাপ্তি হয়ে ধরা দেবে আপনার অভিজ্ঞতায়।
◾যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঘুরুন। এতে জায়গাটির সত্যিকারের এসেন্সটা পাবেন।
◾জেনে নিন এলাকার মানুষের জীবন, তাদের শিল্প-সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ইতিহাস।
🌈 কি করবেন না
◾যত্রতত্র প্লাস্টিক, আবর্জনা ইত্যাদি ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
◾লক্ষ্য রাখুন আপনার আনন্দ-উল্লাস যেন অপরের বিরক্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

