সময়ের চালচিত্রে কাবেরীর অন্তর্ধান
নতুন ছবির মুক্তি হোক বা নির্মাণ। পোস্টার, ট্রেলার রিলিজ। ছবি হিট এবং ফ্লপ। তারকাদের জীবনের ওঠাপড়া। বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে সিনেমার দুনিয়ায় প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলেছে নানা বৈচিত্রপূর্ণ ঘটনা। সেইসবই এই বিভাগে, প্রতি সপ্তাহে। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘কাবেরী অন্তর্ধান’ মুক্তি পাচ্ছে আজই। লিখেছেন রামিজ আলি আহমেদ।
হঠাৎই একদিন খুন হয়ে যায় হাতিমারার দুঁদে নির্ভীক পুলিশ অফিসার মৃন্ময় ঘোষ (কৌশিক সেন)। এলাকায় নকশাল আন্দোলনকারীদের দমনে নেমেছিল সে। নড়েচড়ে ওঠে গোটা পুলিশ প্রশাসন। মৃন্ময় ছিল তাদের দফতরের অহংকার। দীর্ঘদিন ধরে নকশাল আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার অভিযান চলছিল। অন্যদিকে রহস্যময় ভাবে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় মৃন্ময়ের বোন কাবেরী (শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়)। মৃন্ময়ের ছেলে অমর্ত্যকে আঁকা শেখাতে আসে প্রবীণ শিল্পী অর্ঘ্য সেন (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)। অর্ঘ্য এই বাড়িতে পা দেওয়ার পরই পরতে পরতে রহস্যময় ঘটনাগুলি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু কোনওভাবেই এই খুন ও অন্তর্ধান তদন্তের কিনারা করতে পারে না তারা।


অর্ঘ্য বিষয়টা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। এরপর তারই উদ্যোগে আসে নতুন অফিসার-ইন-চার্জ প্রীতম সিং (ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত)। সে কি সক্ষম হবে মৃন্ময় খুনের কিনারা করতে ? ফিরিয়ে আনতে পারবে কাবেরীকে ? মৃন্ময় ও অর্ঘ্যর পরিবারের মধ্যেই বা কী সম্পর্ক ? সেখানে সুস্থতা আসবে কি ? নাকি তদন্ত করতে আসা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও মদ্যপ স্পেশাল তদন্তকারী অফিসার গোকুল দেবনাথ পাল্টে দেবে সম্পূর্ণ তদন্তের গতিমুখটাই ! প্রসঙ্গত, চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই।
কীভাবে খুন হলো মৃন্ময়? তাকে খুনই বা করল কে ? কাবেরীর অন্তর্ধানের পিছনেই বা লুকিয়ে আছে কোন রহস্য? এই সব রহস্যের উন্মোচন হবে আজই। আজই মুক্তি পাচ্ছে ‘কাবেরী অন্তর্ধান’। একদিকে চুড়ান্ত নাটকীয়তা, অন্যদিকে টানটান সাসপেন্স। এসবের পাশাপাশি রয়েছে প্রেমের গুঞ্জন। চতুর্থবার পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিৎ, কৌশিক সেন, শ্রাবন্তী, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়াও ছবিতে আছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, পূরব শীল আচার্য প্রমুখ।

‘কাবেরী অন্তর্ধান’-এর সঙ্গে ওতঃপ্রোতভাবে উঠে এসেছে নকশাল আন্দোলন এবং দেশের তৎকালীন জরুরি অবস্থা। সাল ১৯৭৫। পশ্চিমবঙ্গ তখন উত্তাল নকশাল আন্দোলনের দাপটে। একের পর এক নেতা-মন্ত্রী কারারুদ্ধ হচ্ছেন। গুম খুন হয়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ। এই সময়কেই নিজের ছবি ‘কাবেরী অন্তর্ধান’-এ তুলে ধরেছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। সেই দিক থেকে দেশের এক বিশেষ সময়ের চালচিত্র বলা যায় এই ছবিকে। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এর আগেও বহু মনে রাখা ছবি উপহার দিয়েছেন বাংলার দর্শককে। ‘কাবেরী অন্তর্ধান’ তার ব্যতিক্রম হবে না, এটাই প্রত্যাশিত। এছাড়াও তিনি একজন অসামান্য অভিনেতা। তাঁর অভিনয়ের আর একটি অভিমুখ দেখার আশাতেও উন্মুখ সকলেই। ‘কাবেরী অন্তর্ধান’-এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় স্বয়ং। সহকারী পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়। সঙ্গীতের দায়িত্ব সামলেছেন প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিতে জয়তী চক্রবর্তীর কন্ঠে গীত রবীন্দ্রসংগীতটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন অনিদিত রায় ও অদীপ সিং মঙ্কি। আর্ট ডিরেক্টর তন্ময় চক্রবর্তী। চিত্রগ্রহণ করেছেন গোপী ভগত। সম্পাদনা শুভজিৎ সিংহ। ছবিটি প্রযোজনা করেছে সুরিন্দর ফিল্মস। উত্তরবঙ্গের দৃষ্টিনন্দন লোকেশনে ‘কাবেরী অন্তর্ধান’-এর শুটিং হয়েছে। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতায় পরিচালক নিজেই তাঁর চূড়ান্ত মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। দর্শকও যে এই ছবির মাধ্যমে সেই অপরূপ প্রকৃতির সাক্ষী হবে, বোঝাই যাচ্ছে। তবে, মুখ্য আকর্ষণ নিঃসন্দেহে কৌশিকের পরিচালনায় আর একটি মন ভালো করা ছবি দেখার অভিজ্ঞতা।

