উপভোগ্য ষষ্ঠ কলকাতা আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব
আন্তর্জাতিক স্তরে অন্যতম বৃহৎ কবিতা উৎসব কলকাতার ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যাল হয়ে গেল সম্প্রতি। তিন দিন যাবৎ অনুষ্ঠিত এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন প্রখ্যাত কবি, লেখক, চিন্তাবিদগণ Chair Poetry Evenings । এ বছর আটটি দেশ থেকে উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন সাহিত্য ক্ষেত্রের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। ছিলেন উৎসাহী পাঠক-শ্রোতারাও। মনি রাও, রবিন নাঙ্গম, সরবজীত গরচা, দীপিকা মুখার্জি, মন্দাক্রান্তা সেন, উদয়ন বাজপেয়ী, শুভব্রত ব্যানার্জি, স্বামী অন্তর নীরব প্রমুখর পাশাপাশি ছিলেন বেশ কয়েকজন ভিনদেশী কবি ও সাহিত্যিক।

উৎসব আয়োজিত হয় ভারতীয় ভাষা পরিষদ অডিটোরিয়ামে। এছাড়াও উৎসব সংক্রান্ত নানা অনুষ্ঠান ছিল আলিয়ঁস ফ্রঁসে, সামিলটন হোটেল ক্লাউড ট্যাভার্ন-এ। ছিল হুগলি নদীর ওপর অনুষ্ঠিত ‘পোয়েট্রি অন দ্য ক্রুজ’ Chair Poetry Evenings। উদ্বোধনী দিনে ছিল ফোক ও সুফি মিউজিক। শিল্পীরা ছিলেন উর্মি চৌধুরী, সৌম্য শঙ্কর রায় ও প্রজ্ঞা দত্ত। এ বছরের বিশেষ প্রাপ্তি চেয়ার লিটেরারি ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত চেয়ার পোয়েট্রি বুকস-এর উদ্বোধন। প্রসঙ্গত, গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আয়োজিত এই কবিতা উৎসবে সারা বিশ্বের ২২টি দেশের বিভিন্ন ভাষার কবিরা তাঁদের লেখা কবিতা পরিবেশন করেছেন।

বিখ্যাত কবি ও উৎসবের অন্যতম পরিচালক সনৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, “সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষিতেই ধারাবাহিক ভাবে কবিতা ও শিল্পের সমাদর জরুরি Chair Poetry Evenings । বিশেষত, সারা বিশ্ব জুড়ে ঘটে চলা যুদ্ধ, অশান্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফেলার মতো নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে কবিতার চর্চা শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার একমাত্র উপায় ! আমাদের লক্ষ্য দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতায় আরও বেশি বেশি এই জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।”
মানবতা আজ চরম সংকটের মুখে। সনৎবাবুর কথায় এই উৎসবে উপস্থাপিত কবিদের সৃষ্টিগুলি এমন এক পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের স্বর বলে বিবেচিত হবে। হিন্দি কবি ও উৎসবের আর এক পরিচালক তুষার ধাওয়াল সিংয়ের কণ্ঠেও ছিল একই সুর। সত্যিই তো। কবিতা বা যে কোনও শিল্পের চর্চা মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে। আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব তাই নিছক এক উৎসব নয়, মানবতার অনুপন্থী এক অতুলনীয় উদ্যোগ।

